`

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি কে এই আইরিন খান

  • Views: 1014
  • Share:
আগষ্ট ২৯, ২০২৬ ১১:১৬ Asia/Dhaka

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব আইরিন জুবাইদা খান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করার মধ্যদিয়ে সংস্থাটির বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

আইরিন জুবাইদা খান সিলেটের বিরাহিমপুরের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারে ১৯৫৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তার জন্ম ঢাকায় এবং পড়াশোনাও শুরু করেছিলেন ঢাকার গ্রিন হেরাল্ড স্কুলে। পরে তিনি উচ্চতর পড়ার ইচ্ছা নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। প্রথমে আয়ারল্যান্ড, পরে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান।

ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন আইরিন খান। তিনি ১৯৭৭ সালে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কনসার্ন ইউনিভার্সাল নামে একটি সংস্থা গঠনে প্রত্যক্ষ ভূমিকাও পালন করেন। পরে ১৯৭৯ সালে আন্তর্জাতিক জুরি কমিশনে যোগ দিয়ে কর্মজীবনের সূচনা ঘটান তিনি।

আইরিন খান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘে যোগ দেন। তিনি জাতিসংঘের হাইকমিশনার ফর রিফিউজি (UNHCR) নামক বিভাগে যোগদান করেন। সেখানে তিনি সংস্থাটির শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে ২১ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন পার করেন। ওই সময়কালে তিনি ভারতে চিফ অব মিশন এবং ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল প্রটেকশনের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের’ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন সংস্থাটির প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তার নেতৃত্বেই অ্যামনেস্টি বিশ্বব্যাপী নারী ও কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রচারণামূলক কাজ শুরু করে।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অঅর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

২০২০ সাল থেকে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

মানবাধিকার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালের ‘সিডনি পিস প্রাইজ’ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। একজন লেখক হিসেবেও তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে। তিনি বিখ্যাত ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ গ্রন্থের লেখক।

user
user
Ad