`

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশে মাটিতে ফাটল

  • Views: 2343
  • Share:
নভেম্বার ২২, ২০২৫ ১১:৪০ Asia/Dhaka

ঘোড়াশাল লেবুপাড়া গ্রামের ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের শ্রমিক কামাল মিয়া জানান, সকালে হঠাৎ মনে হচ্ছিল বোঁ বোঁ শব্দ হচ্ছে এবং আমাদের যেন কেউ জোরে জোরে নাড়াচ্ছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুক্রবার ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মাঝারি এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে।

ভূমিকম্পের পর নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঝাঁকুনিতে অনেকের ঘরের আসবাব পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। জেলার পলাশ উপজেলার অন্তত দুটি স্থানে ভূমিকম্পের প্রভাবে মাটিতে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি পৌর এলাকার দড়িহাওলাপাড়ার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের কাঁচা রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজটির পরিচালক আরিফ পাঠান জানান, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার রাস্তা হিসেবে সড়কটি ব্যবহৃত হয়। গতকাল সকালে ভূমিকম্পের সময় তীব্র ঝাঁকুনিতে কাঁচা সড়কটিতে ফাটল দেখা দেয়।

এ ছাড়া পৌর এলাকার লেবুপাড়ার ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্ম নামের একটি গরুর খামারে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে। খামারের আঙিনার মাঝবরাবর এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত একাধিক ফাটল দেখা দেয়। ভূমিকম্পের সময় এসব ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মরত শ্রমিকেরা।

ঘোড়াশাল লেবুপাড়া গ্রামের ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের শ্রমিক কামাল মিয়া জানান, সকালে হঠাৎ মনে হচ্ছিল বোঁ বোঁ শব্দ হচ্ছে এবং আমাদের যেন কেউ জোরে জোরে নাড়াচ্ছে। হঠাৎ দেখি আমাদের ফার্মের মাঠে মাটি ফেটে দুভাগ হয়ে গেছে। আমাদের তখন মনে হয়েছে যে, এখনই আমাদের জীবনের শেষ সময়। হয়তো বা (ভূমিকম্প) আর কিছুক্ষণ থাকলে আমরা ভয়েই মারা যেতাম।

একই ফার্মের পশু চিকিৎসক মাসুদ রানা বলেন, সকালে হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হলে আমি দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসি। এসে দেখি ফার্মের গুরুগুলো লাফাচ্ছে, শ্রমিকরা এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি করছে। ফার্মের মাঠ ফেটে দুভাগ হয়ে গেছে। এমন ফাটল দেখে অনেক ভয় পেয়েছি।

আফসার উদ্দিন নামে চরপাড়া এলাকার একজন সরকারি কর্মচারী বলেন, আজ (শুক্রবার) ছুটির দিন। ভেবেছিলাম একটু সময় করে ঘুম থেকে উঠব। কিন্তু হঠাৎ বুঝতে পারি ঘরের পাখা নড়ছে, সঙ্গে ঘরে থাকা আসবাবও। এমনকি ঘরের শোকেসে থাকা কাচের তৈজসপত্র মেঝেতে পড়তে শুরু করে। আমি ভয়ে বিছানা থেকে উঠে আমার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে ৬ তলা থেকে রাস্তায় নেমে যাই। ভবনটি এত জোরে দুলছিল যে, সবাই ভয়ে চিৎকার করতে করতে আমাদের সঙ্গে নিচে নেমে আসে।

ঘোড়াশাল বাজার এলাকার আছমা বেগম নামে একজন বলেন, আমি রান্নাঘরে ছিলাম, হঠাৎ বাড়ি দুলতে শুরু করলেও প্রথমে বুঝিনি। পরে জিনিসপত্র পড়তে শুরু করলে দ্রুত চারতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামি। আমার ৩৫ বছরের জীবনে এমন তীব্র কম্পন আগে কখনো দেখিনি।

প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে কর্মরত কফিল উদ্দিন নামে একজন জানান, ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসে বাচ্চাদের সঙ্গে কার্টুন দেখছিলাম। হঠাৎ দেখি ঘরে থাকা সবকিছু দুলছে। রান্নাঘরে থাকা বিভিন্ন বাসনপত্র মেঝেতে পড়ে যাচ্ছে। তখন তাৎক্ষণিক সবাইকে নিয়ে দৌড়ে ভবন থেকে নেমে পড়ি। বাচ্চারা খুব ভয় পেয়েছে। এমন ভূমিকম্প আগে কখনো অনুভব করিনি।

গোলাম ফারহানা আলভী নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অনুভূতি জানিয়ে বলে, ‘আমি বইয়ে ভূমিকম্পের কথা পড়েছি, কখনো দেখিনি, আজ দেখলাম। অভিজ্ঞতা খুবই ভয়াবহ। অনেক ভয় পেয়েছি।

নরসিংদী সদর হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের প্রভাবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কমপক্ষে দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পে জেলার প্রায় সব উপজেলায় বেশ ক্ষতি হয়েছে।

ভূমিকম্পে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাব-স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের সাব-স্টেশন বন্ধ রয়েছে। পলাশ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুস শহীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

user
user
Ad